ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ, হিজড়াদের জন্য মাদ্রাসা, মেয়ে হিজরার জন্য পর্দার হুকুম কি?

সম্প্রতি কিছু সমাজসেবক আলমের উদ্যোগে হিজড়াদের পবিত্র কোরআন ও ইলমে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে |এ প্রেক্ষিতে তৃতীয় লিঙ্গের  একটি স্বতন্ত্র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে| এটি সবার কাছে পছন্দনীয় প্রশংসনীয় কাজ|

কিন্তু এই মাদ্রাসায় মহিলা মাদ্রাসার মত কি পর্দার অন্তরাল থেকে শিক্ষাদান করতে হবে নাকি পর্দা ছাড়া তাদের শিক্ষা দিতে হবে| পুরুষেরা তাদেরকে পাঠদান  করবে? নাকি মহিলা শিক্ষক তাদেরকে পাঠদান করবে? এ ব্যাপারে শরীয়তের সম্মতি কি তাও জানা দরকার|

এ সম্পর্কে শরীয়তের মাসালা হলো-: হিজড়াদের মধ্যে দুটি শ্রেণি হতে পারে যাদের আকার-আকৃতি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রস্রাবে অঙ্গ নারীদের মত তাদেরকে সাধারন নারীর মতো করে পাঠদান করতে হবে| পর্দার আড়াল থেকে তাদেরকে পাঠদান করতে হবে |বাইরে বের হলে সাধারণ নারীর মতো পর্দা করতে হবে অর্থাৎ ইসলাম নারীদেরকে যে হুকুম করেছে সেই হুকুম তাদের ওপরও, তাদেরকেও সেই হুকুম মেনে চলতে হবে?

অপরদিকে যেসকল হিজড়াদের আকৃতি পুরুষের মত আকার আকৃতি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, প্রস্রাব অঙ্গ,পুরুষের মত  তাদেরকে ওপেনে পাঠদান করবে পুরুষ শিক্ষক অর্থাৎ ইসলাম পুরুষদেরকে যেভাবে হুকুম করেছে ঠিক সেইভাবেই তাদের কেউ মেনে চলতে হবে|

(দ্রষ্টব্য :/ রদ্দুল মুহতার, ১০ম খণ্ড, ৪৪৯ পৃষ্ঠা/ সুনানে বাইহাকী কুবরা, হাদীস নং ১২৯৪, আল-রাহরুর রায়িক, ৯ম খণ্ড, ৩৩৬ পৃষ্ঠা)

সুতরাং এ ধরনের মেয়ে হিজড়া মাদ্রাসার জন্য মহিলা মাদ্রাসার নিয়ম কানুন প্রয়োগ করে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হবে|

পুরুষ হিজড়া মহিলা হিজড়াদের সাথে সরাসরি চলাফেরা করতে পারবেনা| সাধারণ নারী এবং মহিলা হিজড়াদের কে পুরুষ হিজরাদের জন্য পর্দা মেনে চলতে হবে|

(দ্রষ্টব্য : সুনানে বাইহাকী কুবরা, হাদীস নং ১২৯৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ৩০৪০৩/ আল-রাহরুর রায়িক, ৯ম খণ্ড, ৩৩৮ পৃষ্ঠা/ রদ্দুল মুহতার, ১০ম খণ্ড, ৪৪৯ পৃষ্ঠা)

এ ধরনের পুরুষ হিজড়া দের জন্য পুরুষদের মতোই ওপেনে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং পুরুষ শিক্ষক তাদেরকে পাঠ দান করবে|

তাই নারী হিজড়া এবং পুরুষ হিজড়া একসাথে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে না।

হিজড়া বলতেই একভাবে দেখা যাবে না, তারা কেউ নারী এবং কেউ পুরুষ।তাদের সাথে সাধারন ভাবে চলা যাবে না যারা “দুর্বোধ্য হিজরা”

দুর্বোধ্য হিজরা হলো যারা,
কোনদিক চূড়ান্ত হবে না, তাকে “খুনসায়ে মুশকিল (দুর্বোধ্য হিজড়া)” বলে। তাদেরকে পুরুষ বা মহিলা উভয়শ্রেণীর সম্ভাবনাময় গণ্য করে তাদের সাথে সাধারণ পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে।

তৃতীয় লিঙ্গের ব্যাপারে ইসলাম কি বলছে:

, ইসলামের দৃষ্টিতে তৃতীয় লিঙ্গ বলতে পুরুষ ও মহিলার বাইরে আলাদা কোন লিঙ্গ নেই। বরং ইসলামের হুকুম মতে তাদেরকে আকৃতি ও গঠন অনুযায়ী পুরুষ ও নারী শ্রেণীতে বিভক্ত করে সেই হিসেবে তাদের জন্য শরীয়তের হুকুম মানতে হবে। এ হিসেবে হিজড়াদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ বলা বা তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাকে “তৃতীয় লিঙ্গের মাদরাসা” বলা সঙ্গত হয় না। বরং পুরুষ হিজড়াদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাকে “পুরুষ হিজড়াদের মাদরাসা” এবং মহিলা হিজড়াদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাকে “মহিলা হিজড়াদের মাদরাসা” বলাই যুক্তিযুক্ত।

এক্ষেত্রে অবশ্যই পুরুষ হিজরাদের সাথে নারী হিজড়া ও সাধারণ নারীগণ পর্দা করে চলবেন।|নারী হিজড়াদের সাথে পুরুষ হিজড়া ও সাধারণ পুরুষগণ পর্দা রক্ষা করবেন |  আর এভাবে শরয়ী হুকুম মেনেই  নারী-হিজড়াদের জন্য মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।পুরুষ-হিজড়াদের জন্য পুরুষ মাদরাসা |

সেই সাথে হিজড়াদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সমাজের আর দশটা মানুষের মত চলাফেরা আত্মীয়তা বজায় রাখতে হবে আর এজন্য চাই সামাজিক উদ্বেগ- সুচিন্তা,আত্মীয়স্বজনদের বাড়তি ভালোবাসা, সর্বোপরি সরকারের সহযোগিতায়|

আসুন আমরা সবাই এগিয়ে আসি তারা যেন আমাদের সমাজে থাকে আমাদের মতো করেই

One thought on “ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ, হিজড়াদের জন্য মাদ্রাসা, মেয়ে হিজরার জন্য পর্দার হুকুম কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Posts