November 18, 2020 || 8:44 am

স্বামী তার স্ত্রীর কিডনিতে নতুন জীবন ফিরে পেলেন

বাংলার মেয়েদের স্বামীর প্রতি ভালোবাসা হয় খুবই গভীর। তারা তাদের স্বামীকে আপন পরিবারের থেকেও বেশি ভালোবাসেন।

 

আর স্বামীর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রমাণ করলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার হরিশপুর গ্রামের গৃহবধূ সেতু খান।

বিয়ের পর দুজন দুজনাকে কথা দিয়েছিলেন, বাঁচলে একসাথে বাঁচবো মরলে একসাথে মরবো।

তিনি তাঁর কথা রাখলেন। তিনি নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন কে বাস্তব করলেন।

 

বর্তমান দুজনই  ঢাকা শ্যাম’লী সিডেকি  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, হরিশপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে আনসার সদস্য রাশিদুল ইসলাম তিন মাস পূর্বে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তাকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হলে তার কিডনি সমস্যা ধরা পড়ে।পরে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে পরীক্ষার পর দুটি কিডনি বিকল হয়েছে বলে জানায় চিকিৎসকরা।

তাই দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। তার কিডনি চেঞ্জ করতে হবে| মধ্যবিত্ত পরিবার, কিডনি প্রতিস্থাপন করতে প্রয়োজন লাখ লাখ টাকা।

 

এই লাখ লাখ টাকা রাশেদুলের পরিবারের পক্ষে  জোগাড় করা সম্ভব নয়, ফলে সপরিবার হতাশ হয়ে পড়েন।

কিন্তু ভাগ্যক্রমে রাশিদুল এর সঙ্গে তার স্ত্রীর কিডনি মিলে যায়। তাই স্বামীকে বাঁচাতে কিডনি দিতে রাজি হন সেতু খান।

 

তাদের এই গভীর ভালোবাসায়, গত 12 নভেম্বর ঢাকার শ্যাম’লী 3 নং সড়কের সিডেকি কিডনি হাসপাতালের অপারেশন করা হয়।

সেই দিন বিকেল চারটার দিকে অপারেশন শুরু হয় শেষ হয় রাত 9 টায়| বর্তমানে তারা দুজনই সুস্থ আছেন।

 

মোবাইলে  সেতু খানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পরিবার থেকেই বিয়ে দিয়েছে বিয়ের পর আমি স্বামীকে খুব ভালোবেসেছি, আমাদের ভালোবাসা আর দু বছরের ছেলে সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে আমি তাকে কিনে দিয়েছি।

আপনারা সকলে আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন সারা জীবন সুস্থ থাকি ।

এখানে উল্লেখ্য যে, সাড়ে তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলের সাথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের হবিবুর রহমানের মেয়ে সেতু খানের বিয়ে হয়।

Related Posts